প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ১০:৪০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত দুই দিনে রাজধানী কারাকাস, উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৯২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৩ হাজার ৩৬০ জনকে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট (স্পিকার) জর্জ রদ্রিগুয়েজ। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দিন-রাত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
জর্জ রদ্রিগুয়েজ বলেন, “এমন ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রতিটি জীবন উদ্ধার করা যেন একেকটি অলৌকিক ঘটনা।”
গত ২৪ জুন বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড।
দেশটির ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জোড়া ভূমিকম্পে অসংখ্য বহুতল ভবন, বাসাবাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। ইউএসজিএস আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের উদ্ধারের আশায় উত্তর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদেরই একজন নাজারেথ জিমেনেজ।
রাজধানী কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরার একটি ধসে পড়া আবাসিক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি অসহায় চোখে উদ্ধার তৎপরতা দেখছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র দিয়ে কংক্রিটের বিশাল চাঁই সরানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় এক স্বজনের কাঁধে মাথা রেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজারেথ বলেন, “হায় ঈশ্বর, আমরা ওদের কীভাবে বের করে আনব?”
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, তার ভাই-বোন, ভাইপো-ভাইঝি, ভাগ্নে-ভাগ্নি এবং কয়েকজন বন্ধু এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তারা জীবিত আছেন কি না, সেই অনিশ্চয়তায় প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে উদ্ধার অভিযান কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।
বিশ্ববাসীর প্রতি সহায়তার আবেদন জানিয়ে নাজারেথ বলেন, “আমরা বিশ্বের সব দেশের সরকারের কাছে সাহায্য চাইছি। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ জীবিত থাকতে পারেন। তাদের বাঁচাতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।”
লা গুয়াইরার আরেক বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস জানান, তার ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য একটি আটতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন।
তিনি বলেন, “স্থানীয় মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। কিন্তু বিশাল কংক্রিটের স্তূপ সরাতে ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। এখনও আমাদের এলাকায় কোনো ক্রেন পৌঁছায়নি। আশপাশের ভবনগুলোতেও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন।”
এদিকে পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যেসব বন্ধুপ্রতিম দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে চায়, তাদের সবাইকে আমরা স্বাগত জানাই। এই মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন