মিমিকে হেনস্তার অভিযোগে জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী গ্রেপ্তার
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৯, ২০২৬, ০৯:০৪ রাত
ছবি: সংগৃহিত
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তীকে নামিয়ে দিয়ে হেনস্তার অভিযোগে জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিমির করা অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বনগাঁ থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের কাজে বাধা দিলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মিমি চক্রবর্তী জানান, তিনি বনগাঁ পৌরসভার নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘ আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়েই তিনি মঞ্চে ওঠেন। তবে মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পরই ক্লাবের এক সদস্য তনয় শাস্ত্রী হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়েন। অভিযোগে বলা হয়, গানের মাঝপথে অশোভন আচরণ করে তনয় শাস্ত্রী জোরপূর্বক মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। এ ঘটনায় নিজেকে অপমানিত ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর বনগাঁ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তিন দিন পর তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে মিমির আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আয়োজক ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাস দাবি করেন, মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে কোনো ধরনের অসম্মানজনক আচরণ করা হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিমি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে, রাত সাড়ে ১১টার পর মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের নির্দেশনা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিমি মঞ্চে থাকা অবস্থায় অনুষ্ঠান শেষের ঘোষণা দেওয়া হলেও, তাঁকে সম্মান বজায় রেখেই বিদায় জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যম টিভি নাইনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মিমি চক্রবর্তী বলেন, দোষী ব্যক্তি অবশ্যই শাস্তি পাবে। একটি মেয়েকে হেনস্তার মতো গুরুতর ঘটনাকে গুরুত্ব না দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিমি আরও বলেন, তিনি দেরিতে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়েছিলেন, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বাংলাধারা/এসআর
