জ্বালানি খাতে অভিযান জোরদার, সারাদেশে মজুদ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন
প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৩:০৩ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
দেশজুড়ে অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেলের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক মজুদ পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে মোট জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।
একইসঙ্গে অবৈধ মজুদবিরোধী অভিযানের অগ্রগতিও তুলে ধরেন তিনি। গত ৩০ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত ৩৯১টি অভিযানে মোট ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার, অকটেন ৬৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার।
অভিযান চলাকালে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সাতক্ষীরায় একজনকে দুই বছর, চাঁদপুরে একজনকে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে একজনকে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়।
যুগ্মসচিব জানান, চলমান অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা দায়ের, ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুদ নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়াতে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগরে ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগেও একইভাবে কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাধারা/এসআর
