ছুটি শেষে ঢাকায় বাড়ছে গাড়ির চাপ, এখনো স্বস্তিতে সড়ক
প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৬:২৯ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসের টানা ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে ঢাকা। তবে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি নগরীর চিরচেনা যানজট।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে সড়কে চাপ তুলনামূলক বেশি থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী জটে রূপ নেয়নি। দুপুরের পর আবার অনেক সড়কেই ফিরে আসে ছুটির আমেজ।
সকালের দিকে উত্তরা, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রী, অফিসগামী মানুষ এবং গণপরিবহনের চাপ একসঙ্গে বাড়ায় কিছুটা ধীরগতি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও স্বল্পমাত্রার যানজটও দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন চলাচল ছিল ধীরগতির, যদিও দীর্ঘ সারি চোখে পড়েনি।
বিমানবন্দর এলাকায় সকালে চাপ ছিল বেশি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেনে আসা যাত্রীরা একসঙ্গে নামায় এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সাময়িক ভিড় তৈরি হয়। পরে সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে তারা গন্তব্যে রওনা দিলে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়।
খিলক্ষেত ও উত্তরা এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সকালবেলায় চাপ থাকলেও তা বড় ধরনের যানজটে পরিণত হয়নি। যানবাহন ধীরগতিতে চললেও কোথাও স্থবিরতা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে দুপুরের দিকে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। সড়কে যানবাহনের চাপ কমে গিয়ে অধিকাংশ এলাকাতেই স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক ছিল তুলনামূলক ফাঁকা। উত্তরা, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকায় দুপুরের পর আর তেমন যানজট চোখে পড়েনি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই সক্রিয় ছিল ট্রাফিক পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্ব পালন করে তারা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছেন। যদিও সকালে কিছু এলাকায় বাড়তি চাপ সামাল দিতে ব্যস্ততা ছিল, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ছুটি শেষে একযোগে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় সাময়িক চাপ তৈরি হলেও সবাই ধাপে ধাপে ফেরায় তা বড় আকার নেয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানী পুরোপুরি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে রোববার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আগামীকাল সকাল থেকেই সড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে এবং যানজটও ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ঈদের ছুটি, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসসহ টানা ছুটির কারণে রাজধানী প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছিল তুলনামূলক ফাঁকা। এখন ধীরে ধীরে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
বাংলাধারা/এসআর
