জ্বালানি মজুত ও পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, এমনকি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এসব বন্ধে ‘চিরুনি অভিযান’সহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন তেল আসার পথে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ যাতে অতিরিক্ত তেল মজুত করতে না পারে এবং বাজারে দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন।
দুর্ঘটনায় শোক ও আলোচনা
বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কমিটিকে অবহিত করেন।
সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ
চিফ হুইপ বলেন, দেশের সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের বাধ্য করছেন সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অবহিত করতে। এর ফলে তারা নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন। ভবিষ্যতে প্রতি মাসে এমন ব্রিফিং আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা না হলেও আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনসহ বিভিন্ন বিল নিয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন পেশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাধারা/এসআর
