সানস্ক্রিন মাখলেই মুখে ঘাম? কারণ ও সহজ সমাধান জেনে নিন
প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৮:০১ রাত
ছবি: সংগৃহিত
গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। আর এই সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সানস্ক্রিন। তবে অনেকেরই অভিযোগ, সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই মুখে ঘাম বেড়ে যায়, তৈরি হয় অস্বস্তি।
বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। সানস্ক্রিনের ওপর ঘাম ও ধুলাবালি জমে ত্বকে ব্রণ বা র্যাশের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। কিন্তু তাই বলে সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। বরং সঠিক পণ্য ও পদ্ধতি বেছে নিলেই এই অস্বস্তি সহজেই এড়ানো সম্ভব।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন নির্বাচন করা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল বা ওয়াটার-বেইজড হালকা সানস্ক্রিন ভালো কাজ করে। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ক্রিম-ভিত্তিক সানস্ক্রিন বেশি উপযোগী। আর যারা ঘাম ও তেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারা ম্যাট বা পাউডার-ফিনিশ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সানস্ক্রিন কেনার সময় উপাদানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অক্সিবেনজোন বা অকটিনঅক্সেটের মতো কিছু রাসায়নিক উপাদান ত্বকে জ্বালা, ব্রণ বা র্যাশের কারণ হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল, কৃত্রিম সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল থাকলেও ত্বকে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সানস্ক্রিন বাছাইয়ে এসপিএফ (SPF) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত SPF ১৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলেই দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘসময় রোদে থাকলে বেশি SPF ব্যবহার করাই ভালো।
যাদের সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ঘাম বেশি হয়, তারা কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলতে পারেন। প্রথমত, সানস্ক্রিন লাগানোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। প্রয়োজনে হালকা, অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এরপর সানস্ক্রিন লাগান। এছাড়া সানস্ক্রিনের আগে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত সুরক্ষা পায় এবং ত্বক তুলনামূলক কম ভারী অনুভব করে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, সানস্ক্রিন শুধু গরমের জন্য নয়, সারা বছর ত্বকের সুরক্ষায় এটি অপরিহার্য। তাই সামান্য অস্বস্তির কারণে এটি বাদ না দিয়ে, নিজের ত্বকের জন্য সঠিক সমাধান খুঁজে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলাধারা/এসআর
