সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন বন্ধে হামের টিকা সংকট, দায় আগের সরকারের : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত: এপ্রিল ০৬, ২০২৬, ০৫:৫৫ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে টিকাদান কর্মসূচির দীর্ঘ বিরতি ও টিকার সংকটকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং টিকা সংগ্রহে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় তা বন্ধ থাকায় দেশে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময় টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতির কারণে হামসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতে সংকট তৈরি হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
হাসপাতালের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। রাজশাহীতে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। পাশাপাশি আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। আইসিডিডিআরবি’র উদ্ভাবিত স্বল্পব্যয়ী অক্সিজেন সরবরাহ পদ্ধতিও চালু করা হয়েছে।
তবে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মাঠপর্যায়ে সেবা ঘাটতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বরাদ্দ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না এবং স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় অংশের বাজেট প্রতিবছর অব্যয়িত থেকে যায়।
এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অব্যয়িত অর্থ ব্যবহার করে ইউনিসেফের মাধ্যমে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকার সংকট এড়াতে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাধারা/এসআর
