ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ভিপি পদে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৫, ০২:৫৭ দুপুর

ছবি: সংগৃহিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এবার বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬২ জন। এর মধ্যে একাই সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৮ জন।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে লড়বেন ১৯ জন এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮ জন। ডাকসুর মোট ২৮টি পদে এবার প্রার্থীদের মধ্যে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
ডাকসু ও হল সংসদের জন্য মোট ৫০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭টি মনোনয়ন ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে বাতিল হয়। ভোটার নম্বর, নাম-পরিচয় কিংবা নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যভুলের কারণে এসব মনোনয়ন গৃহীত হয়নি। তবে প্রার্থীরা চাইলে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তফসিল অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপর ২৬ আগস্ট বিকেলে প্রকাশিত হবে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা। সেই দিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা।
ভিপি পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৮ জন- এর মধ্যে ৪৩ জন ছাত্র ও ৫ জন ছাত্রী। জিএস পদে ১৯ জনের মধ্যে একজন ছাত্রী রয়েছেন। এজিএস পদে ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন ছাত্রী।
সম্পাদকীয় বিভিন্ন পদেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ১৫ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১৯ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৩ জনসহ অন্যান্য সম্পাদকীয় পদে ৯ থেকে ১৫ জন প্রার্থী লড়ছেন। সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ২১৫ জন প্রার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে মোট ২৩৪ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এসব পদের জন্য বৈধ প্রার্থী হয়েছেন ১ হাজার ১০৮ জন। শুধুমাত্র ফজলুল হক মুসলিম হলে একজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
ছাত্রী হলগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমজমাট। কবি সুফিয়া কামাল হলে ১৩টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ৪০ জন, রোকেয়া হলে ৪৫ জন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩৬ জন, শামসুন নাহার হলে ৩৬ জন এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ৩১ জন প্রার্থী হয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্র হলগুলোতেও ভিড় কম নয়- শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৮১ জন, অমর একুশে হলে ৮১ জন এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। ডাকসু ভবন, মধুর ক্যানটিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন হল এখন জমজমাট আলোচনায় মুখর।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও ফিরে আসছেন স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে। ১৯৯০ সালের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের নির্বাচিত জিএস ও বর্তমান বিএনপি নেতা মঞ্জুর এলাহী বলেন, “ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হওয়া উচিত। এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলে।”
ইতোমধ্যে ছাত্রদল, বামপন্থী জোট, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ একাধিক সংগঠন নিজেদের প্যানেল ঘোষণা করেছে। মধুর ক্যানটিনে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করবেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করবেন।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা নেতৃত্বাধীন “স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য” প্যানেল ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আগামী দিনে হলগুলো দখল হবে কি না, ক্যাম্পাস সন্ত্রাসের মুখোমুখি হবে কি না—এই নির্বাচনের মাধ্যমেই তা নির্ধারিত হবে।”
প্রায় তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিয়মিতভাবে। ফলে শিক্ষার্থী, প্রাক্তন নেতা-কর্মী ও শিক্ষক সবাই এই নির্বাচনকে দেখছেন ক্যাম্পাস রাজনীতির নতুন দিগন্ত হিসেবে।
বাংলাধারা/এসআর