দেশে প্রতি চারজনের একজন এখন গরিব : পিপিআরসি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৫, ০৯:১৪ সকাল

ছবি: সংগৃহিত
বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার আবারও বেড়েছে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রতি চারজনের একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এখন গরিব হিসেবে চিহ্নিত। ২০২২ সালে সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হারও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পরিচালিত এই গবেষণার ফল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি মিলনায়তনে প্রকাশ করা হয়। এ সময় পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, করোনা মহামারি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক–অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে টানা তিন দশকের দারিদ্র্য হ্রাসের ধারা ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করলেও অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে। ফলে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিক সংকটজনক বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে মানুষের আয়, ব্যয় ও দারিদ্র্যের অবস্থায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় তিন বছরে কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকা, কিন্তু খরচ বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকা। গ্রামে পরিবারের গড় আয় কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ২০৫ টাকা, ব্যয় ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে গড় সঞ্চয় মাসে মাত্র ৭০ টাকা। দরিদ্র পরিবারের বড় অংশ আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করছে, যার অধিকাংশই খাবার কেনায় খরচ হয়ে যাচ্ছে। একটি পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ খাদ্যে ব্যয় হয়। এছাড়া চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচও দ্রুত বেড়েছে।
পিপিআরসি বলছে, দারিদ্র্যের বাইরে এখন দেশের ১৮ শতাংশ পরিবার যেকোনো দুর্যোগে গরিব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবারে অন্তত একজন দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত, যার ফলে চিকিৎসার খরচ বাড়ছে এবং ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে। নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যাদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। গবেষণায় আরও দেখা যায়, দেশে কর্মজীবীদের ৩৮ শতাংশ পূর্ণ সময় কাজ পান না, তাঁরা ছদ্মবেকার। নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এখনো মাত্র এক-চতুর্থাংশের মতো।
জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঘুষ কমেছে, তবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে সরকারি অফিসে, এরপর পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দারিদ্র্যের মধ্যেও বাংলাদেশে টিকে থাকার কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে—প্রবাসী আয়, স্থানীয় ভোক্তা বাজারের বিকাশ, ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসার এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা। তবে হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, এখন জরুরি ভিত্তিতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা, দীর্ঘস্থায়ী রোগ মোকাবিলায় নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সম্ভাবনাময় খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কৌশল এবং দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির পরিকল্পনায় জনমুখী দৃষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাধারা/এসআর