ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

‘শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণ অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ১০:০৫ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা থেকে পাঠানো অনুরোধপত্র পর্যালোচনা করছে ভারত। বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি আমরা পর্যালোচনা করছি। ভারত শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য পূরণে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাব।”

এর আগে, দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে পাঠানো সর্বশেষ নোট ভারবালের কোনো জবাব ভারত এখনো দেয়নি।

তিনি বলেন, “চিঠিটি নোট ভারবাল আকারে আমাদের মিশনের মাধ্যমে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এত দ্রুত উত্তর প্রত্যাশাও করি না।”

গত বছরের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ দুই দফা চিঠি পাঠালেও নয়াদিল্লি সাড়া দেয়নি।

১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে গত বছরের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে এ বিষয়ে তৃতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- বিস্তৃত বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত রায় ঘোষণা করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা প্রয়োজন।

রায়ের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, “নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সবসময় বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতেই আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকব।”


বাংলাধারা/এসআর