ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

গুগলে কনটেন্ট অপসারণ-সংক্রান্ত সংখ্যায় সরকারের ব্যাখা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১২:০১ রাত  

ফাইল ছবি

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন- এই ছয় মাসে গুগলের কাছে মোট ২৭৯টি কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। গুগলের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে উল্লেখিত এ তথ্য কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনার পর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখা দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, **মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের বাইরে দেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও, রিলস বা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কোনো কনটেন্ট অপসারণে সরকার কখনোই অনুরোধ জানায়নি।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ব্যক্তিগত চরিত্র হনন, বেআইনি মানহানিকর তথ্য, সন্ত্রাসবাদ বা সাম্প্রদায়িক উসকানির মতো গুরুতর অভিযোগের রিপোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজনে গুগল বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করা হয়।

সরকার স্পষ্ট করে জানায়, বাংলাদেশে বিটিআরসি, এনটিএমসি বা কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থারই সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা নেই। তাই প্রয়োজনীয় সব অনুরোধই সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কাছে পাঠাতে হয়।

সরকার জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে পাঠানো ২৭৯টি অনুরোধ পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

* জুন–ডিসেম্বর ২০২২ সালে অনুরোধের সংখ্যা ছিল ৮৬৭, যা বর্তমান সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
* জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৪ সময়ে সংখ্যা ছিল ১৫৩, যা আওয়ামী আমলের সর্বোচ্চ অনুরোধের মাত্র সাড়ে পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
* গুগলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬৫% অনুরোধ ‘Not Enough Information’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে- অর্থাৎ এগুলো ছিল সাধারণ প্রশাসনিক রিপোর্ট, বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ ভেতর ও বাইরে থেকে “অস্বাভাবিক মাত্রায়” মিসইনফরমেশন ও প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইনের শিকার হয়।

* প্রতিবেশী দেশের কিছু গণমাধ্যম থেকেও নিয়মিত অপপ্রচার চালানো হয়।
* জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে সাইবার স্পেসে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও সহিংসতার আহ্বানমূলক কনটেন্ট বৃদ্ধি পায়।

সরকার জানায়, সাইবার নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অনলাইন জুয়া-গ্যাম্বলিং নিয়ন্ত্রণ- এসব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সাধারণ অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট গুগলে পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো গুগলের রিপোর্ট প্রকাশের আগে সরকারের মন্তব্য বা ব্যাখ্যা নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। এতে প্রকৃত তথ্য আড়াল হয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার হয়েছে বলে মন্তব্য করে সরকার।

জানুয়ারি-জুন সময়ে দেশে

* শতাধিক আন্দোলন,
* মব লিঞ্চিং,
* মাজার ভাঙচুরসহ সাম্প্রদায়িক ঘটনা,
* বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
- এসব ঘটনার কারণে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিতভাবে প্ল্যাটফর্মগুলোতে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। বিশ্বব্যাংক ও আইটিইউ বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ফ্রিডম হাউসের Freedom on the Net 2025 রিপোর্টে বাংলাদেশ বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

* গতবারের স্কোর ৪০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫,
* যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রগতি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর দমনমূলক সরকার অপসারিত হওয়া এবং নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের ইন্টারনেট বন্ধ না করার নীতি ও সাইবার সংস্কারের কারণেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে।


বাংলাধারা/এসআর