ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত, খালেদা জিয়ার অবস্থা বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৩:১০ দুপুর  

ফাইল ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো মুহূর্তে বিদেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

আযম খান বলেন, বেগম জিয়া বর্তমানে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। বিদেশের কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত। এখন সবকিছু নির্ভর করছে মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নের ওপর।

২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ এবং হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিলে বেগম জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল রোগে ভুগছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বর্তমানে সিসিইউতে তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত।

শনিবার সকালে তাকে দেখতে যান ডাকসুর সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম। বাইরে এসে তিনি দেশবাসীর কাছে বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও অপরিবর্তিত। বিদেশ নেওয়া বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মেডিকেল বোর্ড।

এদিন সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে জানায়, বেগম জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও তিনি সজাগ আছেন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা বুঝতে পারছেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়। আরও স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন।

বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়া চান। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও গভীর উদ্বেগ জানিয়ে নিয়মিত তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। চিকিৎসাসেবায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেন।


বাংলাধারা/এসআর