গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই কিশোরগঞ্জে সুজনের গোলটেবিল বৈঠক
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০১:০৯ রাত
সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এ জন্য প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আর এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কার এবং নাগরিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বিস্তার।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) কিশোরগঞ্জে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটি আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ' এ প্রতিবাদ্য নিয়ে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকে নানা শ্রেণি পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে শুরুতে প্রতিবাদ্য বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক এডভোকেট শাহ আশ্রাফ উদ্দিন দুলাল। এতে সুজনের কার্যক্রমের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন সুশাসনের জন্য নাগরিক ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জয়ন্ত কর।
সুজন-জেলা কমিটির সভাপতি-প্রবীণ সাংবাদিক মু আ লতিফের সভাপতিত্বে এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুজন-ময়মনসিংহের বিভাগীয় সভাপতি এডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, জেলা সুজনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নাসিরউদ্দীন ফারুকী ও সহ-সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন ভূঁইয়া।
এছাড়াও সুজন-জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন গণমাধ্যমকর্মী মনিরুজ্জামান চৌধুরী সোহেল, মুশফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সমর কান্তি সরকার, নাট্যকার আতাউর রহমান মিলন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শাহজাহান শাজু, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আতাউর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক স্বপন কুমার বর্মণ, জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগারের সভাপতি রুহুল আমিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সচেতন নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সংগঠনের ৮০ জন প্রতিনিধি আলোচনা সভায় অংশ নেন।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া সকলে সুষ্ঠু নির্বাচন, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ এই তিনটি বিষয়কেই গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ সময় তারা নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা, ভুয়া ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রতিরোধ এবং নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
