ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

২০ জানুয়ারি বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক

নির্বাচনের আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৫, ২০২৬, ০৯:২৯ সকাল  

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন করে গতি আনছে বিএনপি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ভাবনা এবং সামাজিক অঙ্গীকার তুলে ধরতেই বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক টেবিলে বসছে দলটি।

এই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ জানুয়ারি রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। বৈঠকে ক্ষমতায় গেলে জনগণের কল্যাণে বাস্তবায়নযোগ্য ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ২৮ দিন। এ সময় বিএনপি নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করাই এই কূটনৈতিক সংলাপের মূল উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০ জানুয়ারির বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

বৈঠকে বিএনপি দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে। একটি হলো সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে দলের প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ। অন্যটি হলো জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত ৮টি সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ব্যবস্থা, ক্রীড়া উন্নয়ন, যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষা।

বিএনপি নেতারা জানান, রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রূপরেখা থেকে জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই ৮টি বিষয় আলাদা করে তুলে ধরা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিএনপির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি হোটেল শেরাটনে গণমাধ্যমের সম্পাদক, মালিক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই অনুষ্ঠানের পর থেকেই কূটনৈতিক মহলে বিএনপির তৎপরতা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, মূল বৈঠকের আগেই তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তান, ভারত, চীন, জার্মানি, তুরস্ক, মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা গত কয়েক দিনে তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। এসব বৈঠকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, এই কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী কয়েক দিন আরও একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ২০ জানুয়ারির মতবিনিময় সভায় বিএনপির সামাজিক অগ্রাধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভাবনা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক মনে করেন, বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সঙ্গে কূটনীতিকদের যোগাযোগ স্বাভাবিক। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি যে ভবিষ্যৎ নীতিমালা ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে, তা দলের ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।


বাংলাধারা/এসআর