হাজারো প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ : রাষ্ট্রপতি
প্রকাশিত: মার্চ ০৬, ২০২৬, ০২:৩৭ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে। শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পাট বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পাট একদিকে কৃষিপণ্য, অন্যদিকে শিল্পজাত ও রপ্তানি পণ্য হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের গুরুত্ব এখন বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব যখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, তখন পাট ও পাটজাত পণ্য বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাটচাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল পদ্ধতি অনুসরণ করে পাটচাষ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক, মানসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী পাটজাত পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে পাটের ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সৃজনশীল তরুণ প্রজন্ম স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিংকে শক্তিশালী করতে পারে। বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন পাটপণ্য বিশ্বের বাজারে তুলে ধরার মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির সার্বিক সংস্কার, অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে বন্ধ ও রুগ্ন পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
পাট খাতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ ফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবনে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো ও রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, কাঁচাপাটের সরবরাহ ও চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের সহায়তা দিতে আগামী পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষিবীমা সুবিধা, কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা পাবেন।
পলিথিন ব্যাগের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সবাইকে পলিথিন ব্যবহার পরিহার করে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পাটখাতে আবারও সোনালী দিন ফিরে আসবে এবং সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
বাংলাধারা/এসআর
