মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব: শ্রীলঙ্কায় আবারও ২৫% জ্বালানির দাম বৃদ্ধি
প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২৬, ০২:২০ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দ্বিতীয় দফায় জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে শনিবার আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার, যা জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩১৭ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৩৯৮ রুপি (প্রায় ১.৩০ ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণপরিবহনে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দামও লিটারপ্রতি ৭৯ রুপি বাড়িয়ে ৩৮২ রুপি করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহেই খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম ৮ শতাংশ বাড়ানো এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে জ্বালানির ব্যবহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ে সপ্তাহে চার দিন কর্মদিবস চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট, যাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়।
বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা জ্বালানি তেলের জন্য পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। দেশটি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে এবং অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে বৈশ্বিক অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে তাদের জ্বালানি খাতে।
সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। উল্লেখ্য, ওই বছর বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছিল দেশটি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট সহায়তা পায় কলম্বো।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক জ্বালানি অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কার এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি মোকাবিলার একটি জরুরি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাধারা/এসআর
