ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

গাজীপুরে সায়হাম ডিলারের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

এম এইচ শাহীন, গাজীপুর:

 প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ১২:১৩ রাত  

গাজীপুরে ওএমএস ডিলার আবু সায়হাম ডিলারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকার ভূর্তুকী দিয়ে বাজার দরের চেয়ে কম দরে এসব পণ্য বিক্রয় করে, যা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। কিন্তু এখানে উল্টো চিত্র। খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে ওএমএস এর সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অতিরিক্ত দামে চাল ও আটা বিক্রয় করছেন সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ২নং ওয়ার্ডের ডিলার আবু সায়হাম। অভিযুক্ত ডিলার দীর্ঘদিন ধরে মজুদকৃত চাউল ও আটা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সরকারি হিসেব অনুযায়ী দেশে এ মুহূর্তে চালের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। তবু ভরা মৌসুমেও কমছে না চালের দাম। উল্টো গাজীপুর সহ কাশিমপুরের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েই চলেছে।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি (ওএমএস) কার্যক্রম প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়িয়ে নির্ধারণ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের নেওয়া জনবান্ধন এই কার্যক্রমের আলোকে গাজীপুর জেলা ও উপজেলা, মহানগরীর ওয়ার্ড পর্যায়ে ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে জন প্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি ৩০ টাকা করে চাল ও ২৪ টাকা করে আটা বিক্রয় কার্যক্রম চালু করেছে। 

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর ২নং ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার আবু সায়হাম এর নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিদিন ১টন চাউলের বেশির ভাগই সরবরাহ করছে না সেবা গ্রহীতাদের মাঝে। নিয়ম- নীতির কোন তোয়াক্কা না করে অবৈধ পন্থায় চাউল বিক্রয় করার কারনে ওএমএস এর চাল কিনতে আসা অনেকেই ৫ কেজি করে চাল না পেয়েই খালি হাতে ফেরত যাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। জড়িত ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ের দায়িত্বে থাকা আরিফ আহাম্মেদ ওরফে মিঠুন ও মুনসুর এর সাহায্যেই ডিলার আবু সায়হাম এতদিন ধরে এসব কাজ পরিচালনা করে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, রহিমা বেগম ও জাকির হোসেন সহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১১ টার মধ্যেই চাউল ও আটা বিক্রি বন্ধ করে দেন এই ডিলার। দোকানে লোকজন কমে গেলে বেলা ১ টার পর অটোরিক্সা বা ভ্যান গাড়িতে করে সেই চালের বস্তা পাল্টিয়ে ২-৩ বস্তা করে পাচার করেন দোকানিদের কাছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিলার (স্বত্বাধিকারী) আবু সায়হাম অভিযোগটি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি সপ্তাহে ওখানে দু'দিন যাই, এ ধরনের অভিযোগ আমি এখনো পাইনি। আমার যে প্রতিনিধি রয়েছে আমি তার সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতেছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তো সমস্যা।

এবিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ড এর সচিব জসিম উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষে ঐ ডিলারের বিষয়ে অনেক অভিযোগও আছে বলে তিনি জানান। ডিলারের কারনে ওএমএস এর চাউল পাওয়া থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।
 
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৮ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল-আটা বিক্রয়ে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তারা যদি অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সহ অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে থাকে। তাহলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তবে ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শফি আফজালুল আলম বলেন, অসহায় গরীব মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার কোন সুযোগ নেই। আর আপনি যে অভিযোগের বিষয়টি বললেন বিষয়টি অতি দ্রুত তদন্ত করে ডিলার দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন ওএমএস এর ন্যায্য মূল্যে চাউল বিতরণ এর কর্মসূচি জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং আরো বাড়ানো প্রয়োজন তাহলেই ওএমএস চাউল পাচার কালোবাজার বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মত দেন।