ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বিএনপি-জামায়াতের ৯ প্রার্থীসহ ৪১১ মনোনয়নপত্র বাতিল, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৪, ২০২৬, ০৫:৪৯ বিকাল  

ছবি: বাংলাধারা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম তিন দিনে বিএনপির তিনজন ও জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন প্রার্থীসহ মোট ৪১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এতে করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীন রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাতিল হওয়া প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো।

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির অভিযোগ- রিটার্নিং কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছেন। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হওয়া কিংবা তথ্যগত সামান্য ত্রুটির মতো ‘ঠুনকো কারণে’ মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে, আইনবহির্ভূতভাবে কোনো প্রার্থিতা বাতিল হয়ে থাকলে আপিলে তা পুনর্বহাল হবে। পাশাপাশি আইন অমান্যকারী কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইসি।

রোববার ছিল যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামীকাল সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ইসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আপিলের জন্য কমিশন বরাবর আবেদন করতে হবে মনোনয়নপত্রের মূল কপিসহ সাতটি অনুলিপি দিয়ে এবং নির্ধারিত বিভাগীয় বুথে তা জমা দিতে হবে। কমিশনে আপিলে প্রতিকার না মিললে প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় ৭৪ জন এবং অন্যান্য জেলায় ৩৩৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর বড় অংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতার কারণে। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় এসব প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে ভোটার সই যাচাইয়ে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, যাচাইকৃত ১০ জন ভোটারের মধ্যে একজন শরীয়তপুর এবং আরেকজন ঢাকা-১১ আসনের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত। তবে ডা. তাসনিম জারার দাবি, একজন ভোটার শরীয়তপুর থেকে ঢাকা-৯ আসনে স্থানান্তরিত হলেও ইসির তালিকায় তা হালনাগাদ হয়নি, আর অন্যজনের ঠিকানা ঢাকা-৯ এলাকায় হলেও তালিকায় ঢাকা-১১ আসনে দেখানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

মনোনয়ন বাতিল নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, **আইনের বাইরে কোথাও কাউকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই**। তাঁর ভাষায়, “যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আপিলে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।”

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়াকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসার বিষয়েও তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তাই এই কারণে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, আপিলে তারাও প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় বিএনপি প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। শেরপুর-২ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি জমা না দেওয়ায় ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়। যশোর-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে টি এস আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন সান্টুর মনোনয়ন স্থগিত রয়েছে।

গাইবান্ধা-১ আসনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়ায় মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল হয়।
যশোর-২ আসনে ক্রেডিট কার্ড খেলাপের অভিযোগে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, জামালপুর-৩ আসনে সই জালিয়াতির অভিযোগে মুজিবর রহমান আজাদী, ঢাকা-২ আসনে খেলাপি ঋণের অভিযোগে কর্নেল (অব.) আবদুল হক, কুমিল্লা-৩ আসনে হলফনামায় তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় ইউসুফ সোহেল এবং কক্সবাজার-২ আসনে মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, প্রার্থিতা বাতিলের সময় কর্মকর্তাদের আচরণ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।

জামায়াত-এনসিপি সমঝোতায় পাওয়া সিলেট-১ ও সিলেট-৪ আসনে এনসিপি প্রার্থীদের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়ায়। এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, কিছু জেলা প্রশাসক বিএনপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন।

তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, এসব মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তুচ্ছ কারণে। আপিলে অধিকাংশই বৈধ হবে, ফলে আসন শূন্য থাকার আশঙ্কা নেই।


বাংলাধারা/এসআর