ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

শীতের সকালে কুসুম গরম পানি, সুস্থ থাকার সহজ অভ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০১:৪৩ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

শীত এলেই অনেকেরই ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা কিংবা নাক বন্ধের মতো সমস্যায় ভোগার প্রবণতা বাড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শীতের সকালে কুসুম গরম পানি পান হতে পারে শরীরকে সুস্থ রাখার এক সহজ ও কার্যকর উপায়।

অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। অনেকের ক্ষেত্রে তীব্র শীতে হাত-পায়ের আঙুল নীল হয়ে যাওয়া কিংবা অসাড় ভাব দেখা দেয়। নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান করলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে এবং শরীর স্বস্তি পায়।

কুসুম গরম পানি পানের উপকারিতা

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
শীতের সকালে কুসুম গরম পানি পান শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই দিনের শুরুতে এই অভ্যাস শরীরকে উষ্ণ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

হজমশক্তি বাড়ায়
শীতকালে অনেকের হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। কুসুম গরম পানি হজম সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পেট ফাঁপা ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাও কমায়।

শরীরের ভেতর পরিষ্কার রাখে
কুসুম গরম পানি শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে। এতে কিডনি ও লিভার সুস্থ থাকে, রক্ত পরিষ্কার হয় এবং রক্তসঞ্চালনও ভালো হয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য কুসুম গরম পানি উপকারী। এটি মেটাবলিজম বাড়ায়, ফলে ক্যালরি পোড়ানোর হারও বৃদ্ধি পায়।

দাঁত ও মাড়ির যত্নে কার্যকর
শীতকালে দাঁতের ব্যথা ও মাড়ির সমস্যা বেড়ে যায়। কুসুম গরম পানি দিয়ে নিয়মিত কুলি করলে দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

শীতজনিত সমস্যা কমায়
মাথাব্যথা, গলাব্যথা, সর্দি কিংবা নাক বন্ধ, এ ধরনের শীতকালীন সমস্যায় কুসুম গরম পানি পান আরাম দেয় এবং উপসর্গ হালকা করতে সাহায্য করে।

শীতের সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করা ছোট একটি অভ্যাস হলেও এর উপকারিতা অনেক। নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে তুললে শীতকালেও শরীর থাকবে সুস্থ, সতেজ ও আরামদায়ক।

বাংলাধারা/এসআর