ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রাজধানীতে স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ১২, ২০২৬, ০৩:২৮ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

রাজধানীর বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন রেস্তোরাঁ কর্মী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি লিলিকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব-৩ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন স্বীকার করেছে যে নিহত স্কুলছাত্রী লিলির সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রে তিনি বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে লিলির কাছে প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করতেন। এমনকি লিলির পরিবার ঢাকার বাসা ছেড়ে গ্রামে গেলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও লিলিকে জানিয়েছিলেন তিনি।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটের দিকে লিলির পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায় না থাকায় মিলন ওই সুযোগ নেয়। সে সময় লিলিকে একা পেয়ে আবারও তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে লিলি সেই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে আপত্তি জানিয়ে মিলনকে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কোনো কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। একই সঙ্গে সে মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করে।

এই প্রত্যাখ্যান ও অপমান সহ্য করতে না পেরেই মিলন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে লিলিকে হত্যা করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব দিক ও ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে মিলনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর মেইন রোডের এল ব্লকের ২/১ নম্বর সড়কে ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার লিলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় খিলগাঁও থানা পুলিশ।

ডিএমপির খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে যেকোনো সময় লিলিকে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করছে পুলিশ।

নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে তার বাবা-মা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করত। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়। লিলির বাবা সজীব মিয়া বনশ্রী এলাকায় একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।

 

বাংলাধারা/এসআর