নির্বাচনকে ‘পারফেক্ট’ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান উপদেষ্টা
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬, ১০:৩৩ রাত
ছবি: সংগৃহিত
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে শালীন আচরণ বজায় রয়েছে, নেই কটু কথা বা অপ্রীতিকর ঘটনা। তিনি এটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে তার বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট, উই আর ভেরি হ্যাপি। কিন্তু আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোটটাকে পারফেক্ট করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া যেন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নেক্সট ওয়ান উইক খুবই ক্রুশিয়াল। ভোট হবে উৎসবমুখর। নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন। মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোট উৎসবে অংশ নেবে। আমি আশা করি, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। সারা দেশে মোট প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে। বৈঠকের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা রেন্ডমভাবে পাঁচটি স্থানে দায়িত্ব পালনরত বডি ক্যামেরা বহনকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ক্যামেরার কার্যকারিতা যাচাই করেন।
এ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এখন পুরোপুরি চালু হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, এই অ্যাপটি কেবল নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো ভোট কেন্দ্রে বা ভোট কেন্দ্রের বাইরে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা গোলযোগের ঘটনা ঘটলে অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। এর ফলে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, এর আগে দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপের নিরাপত্তা সফলভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর ও পরীক্ষিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সার্বিকভাবে প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতির মাধ্যমে এবারের নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে।
বাংলাধারা/এসআর
