ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামী মাসে, ইঙ্গিত মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ০৭, ২০২৬, ০৩:৩৫ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী মাসে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম পর্যালোচনা করা হয়, তাই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করেই নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশের শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা দিয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে এ পরিস্থিতিতেও দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ডিজেলের মজুত ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন এবং এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন আসবে। অকটেনের মজুত ১০ হাজার ৫০০ টন, যা এপ্রিলের মধ্যে ৭১ হাজার ৪৩৩ টনে উন্নীত হবে। এছাড়া পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার টন, যার সঙ্গে এপ্রিলেই আরও ৩৬ হাজার টন যোগ হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশই জ্বালানি সংকটে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, শ্রীলঙ্কা চালু করেছে রেশনিং ব্যবস্থা। ভারত, নেপাল, ভুটানসহ অন্যান্য দেশও মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটলেও বাংলাদেশ এখনো মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে।

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য সেচ কার্ডের মতো ‘কৃষি কার্ড’ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সহজে ডিজেল পেতে পারেন। এছাড়া অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, মনিটরিং টিম গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযানে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ৪০ লাখ ৪৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার এবং ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ নিয়মিত তদারকি চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

বাংলাধারা/এসআর