সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় নিয়ে রায়, আপিলে নিষ্পত্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ
প্রকাশিত: এপ্রিল ০৮, ২০২৬, ০৪:৩৩ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বিষয়টি আপিল বিভাগের মাধ্যমেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। কপি হাতে পেলেই আপিল দায়ের করা হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এ রায়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত। তাই আপিল বিভাগেই এর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা ও নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।”
এর আগে, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৮৫ পৃষ্ঠার এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের বিধান পুনর্বহাল করেন। ফলে বিচার বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিষয়ক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপরই ন্যস্ত থাকবে।
রায়ে আরও বলা হয়, ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী ও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে এসব সংশোধনী বাতিল করে মূল বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত (রিভাইভ) হয়েছে।
এছাড়া ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে।
উল্লেখ্য, বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরবর্তীতে সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
বাংলাধারা/এসআর
