ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ০৮, ২০২৬, ০৪:২৯ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুদকের কার্যালয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনের সঙ্গে ‘৮ মাসে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে আট মাসে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে পোস্টিং নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এসব বদলি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সময়ে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। বরং ঘুষের ভিত্তিতে ‘সি’ ও ‘বি’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো ‘এ’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের তুলনামূলক নিম্ন গ্রেডের অফিসে বদলি করা হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ‘শাস্তিমূলক’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এছাড়া স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলির ঘটনাও ঘটেছে। কোনো কোনো কর্মকর্তাকে ছয়-সাত মাসে তিন থেকে চারবার পর্যন্ত বদলি করা হয়েছে। এমনকি যোগদানের আগের দিন নতুন করে বদলির নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

বদলি-বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকায় গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বদলি ও পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই বলে জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই সতর্কতা জারির আগেই বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাধারা/এসআর