নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই, একদিনও এদিক-ওদিক নয়: মার্কিন সাবেক কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা
প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৪, ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে সরকার সিদ্ধান্ত বদলাবে না বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও সরকার ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকারে অটল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কে কী বলল, সেটি বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন হবে। একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।”
তিনি জানান, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে। ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান বর্তমানে নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফর করছেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, ভুয়া খবর ও অপতথ্যের প্রভাব, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি মিললে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন ভিত্তি গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ রুদ্ধ করবে।
তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও কনটেন্ট শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়ছে।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম বড় শত্রু হয়ে উঠেছে। এই হুমকি মোকাবিলায় আরও সমন্বিত ও শক্ত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুই কূটনীতিক গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চান।
জবাবে প্রফেসর ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সেই প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখেছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। তিনি বলেন, “ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ নিজের অপরাধ স্বীকার করে, অনুতাপ প্রকাশ করে। কিন্তু যারা তখন ক্ষমতায় ছিল, তারা এখনো তাদের বর্বর অপরাধ অস্বীকার করছে। বরং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণদের হত্যার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধের বিপুল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা দায় স্বীকারের মানসিকতা নেই। এই বাস্তবতায় এখনই এমন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এসআর
