মাতৃত্বের পর মানসিক অবসাদের মুখে পরিণীতি, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার
প্রকাশিত: জানুয়ারী ১১, ২০২৬, ১২:২৬ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার পর নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ বলে জানিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তবে সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পুত্র নীরের বয়স দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মানসিক অবসাদ তাঁকে ঘিরে ধরেছে। তবু ভেঙে পড়েননি পরিণীতি। বরং এই অন্ধকার সময়ের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছেন তিনি নিজেই।
আনন্দবাজার, এই সময়সহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ অক্টোবর মা হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করেন পরিণীতি। শুরুতে সন্তান জন্মের আনন্দে কেটেছে কিছুটা সময়। এরপর ধীরে ধীরে সেই উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়ে। অভিনয়জীবনের ব্যস্ততা ছেড়ে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে দিল্লিতে নতুন সংসার গুছিয়ে নিলেও, জীবনের প্রতি আগ্রহ ফিকে হয়ে আসতে থাকে। একপর্যায়ে অবসাদ গ্রাস করে তাঁকে।
এই পরিস্থিতিতে অবসাদকে মেনে নিয়ে চুপ করে বসে থাকেননি পরিণীতি। মানসিক শান্তি ফিরে পেতে তিনি বদলে ফেলেছেন দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরন। ঈশ্বরের আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়ম করে মন্ত্র পাঠ করছেন। এর মধ্যে তাঁর প্রিয় মন্ত্র হনুমান চালিশা। পাশাপাশি প্রতিদিন পাখির ডাক শোনেন তিনি। নিজেকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতেই এই অভ্যাস গড়ে তুলেছেন।
তবে এত কিছুর পরও অবসাদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে পরিণীতি বলেন, ‘মনকে ইতিবাচক রাখলে শরীরও সেটার সঙ্গে তাল মেলায়। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোনে চোখ রাখাটা সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস। এতে সারাটা দিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আমি ফোন এড়িয়ে চলি। বিশ্বাস করি, নতুন যে রুটিন মেনে চলছি, তা আমাকে ধীরে ধীরে অবসাদ থেকে দূরে নিয়ে যাবে।’
পরিণীতির স্বামী রাঘব একজন রাজনীতিবিদ। পেশায় ভিন্ন হলেও দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া দৃঢ়। বিয়ের পর থেকে কাজ অনেকটাই কমিয়েছেন পরিণীতি। অন্যদিকে রাঘবের রাজনৈতিক ব্যস্ততাও বর্তমানে কিছুটা কম। এর মধ্যেই তাঁরা বাবা-মা হয়েছেন। সন্তানের দায়িত্ব মূলত পরিণীতির ওপর থাকলেও, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে আছেন তাঁর স্বামী। তারপরও অবসাদ যেন পিছু ছাড়ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান জন্মের পর অনেক নতুন মা মানসিক অবসাদে ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’। শিশুর জন্মের পর জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। মায়েদের জীবন হয়ে ওঠে একান্তভাবে সন্তানকেন্দ্রিক। এই হঠাৎ পরিবর্তন এবং দায়িত্বের চাপ অনেক সময় মানসিক অবসাদের জন্ম দেয়। পরিণীতির ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে এই অন্ধকার সময়েও নিজেকে শক্ত করে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন পরিণীতি চোপড়া। নিজের সঙ্গে নিজের এই লড়াইয়ে তিনি যে হাল ছাড়তে নারাজ, সেটাই এখন তাঁর গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক বলে মনে করছেন ভক্তরা।
বাংলাধারা/এসআর
