৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ২ লাখ কোটি টাকা, চাপে অর্থনীতি
প্রকাশিত: এপ্রিল ০৯, ২০২৬, ০৯:৩৮ রাত
ছবি: সংগৃহিত
রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেড়ে যাওয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৯১ কোটি মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রমজানকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারিতে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যায়। একই সময়ে রপ্তানি আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে মোট আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই বৈষম্যের কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণ জরুরি।
চলতি হিসাবে সামান্য ঘাটতি
চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) এখনো ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, যদিও আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি হিসাবে ঘাটতি থাকলে তা পূরণে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিক লেনদেনে ইতিবাচক ধারা
তবে সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। আলোচিত সময়ে এটি দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১৫ কোটি ডলারের ঘাটতি।
রেমিট্যান্সে জোরালো প্রবৃদ্ধি
অর্থনীতিতে স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
এফডিআই ও পোর্টফোলিও বিনিয়োগে ভিন্ন চিত্র
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৬ কোটি ডলার।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। এ সময়ে নিট ৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
সার্বিকভাবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বৈদেশিক আয়ের উৎস শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি।
বাংলাধারা/এসআর
