ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

তিন বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৮:১৮ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

দেশের তিন বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে দুইজন, ময়মনসিংহে একজন এবং সিলেটে একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়ও একই হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ ও শনাক্ত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগজুড়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১১০ জন শিশু। চলতি বছরে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ১৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা তিন বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মারা যায়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি অন্যান্য শারীরিক জটিলতাতেও ভুগছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে নতুন করে ২০ শিশু ভর্তি হয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৪৪ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ২৬২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭২ শিশু।

অন্যদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সিলেটে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। এর আগে ৮ এপ্রিল পাঁচ মাস বয়সী এবং ৬ এপ্রিল চার মাস বয়সী আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগজনক। জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া, এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাধারা/এসআর