ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ, ক্ষতি প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

মাত্র ৪০ দিনের সংঘাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামো থেকে শুরু করে শিল্প, জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনায় একাধিক হামলায় দেশের সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আল-আরাবিয়া, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানায়।

ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে দেশটির অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক ভবন রয়েছে, যেগুলোর কিছু আংশিক এবং কিছু সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।

শুধু আবাসিক খাত নয়, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতেও আঘাত হানা হয়েছে। প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলার পাশাপাশি ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষা খাতও এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পায়নি। হামলায় ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রেডক্রসের অন্তত ২০টি স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমানসহ অন্তত ১৫টি স্থাপনায় হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে সামরিক অবকাঠামোতেও বড় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ ও শারাউদ এবং অন্তত ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের এই সংঘাতে ইরানের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও জনজীবনে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।

বাংলাধারা/এসআর