ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি: দিনে সর্বোচ্চ ১৫ জাহাজ চলাচলের শর্ত ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:৫৬ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর সীমা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ১০ দফা শর্তের একটি হিসেবে তেহরান জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। একদিকে ইরান, অন্যদিকে ওমান, এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রণালিটি দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত হরমুজ দিয়ে। তবে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান কার্যত এই রুটে অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়।

শুধু জ্বালানি নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্যও এই প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুট। চলমান সংঘাতের কারণে এসব খাতেও প্রভাব পড়েছে।

এদিকে গত ৭ এপ্রিল ১৪ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনা করবেন। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা ও ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব গুরুত্ব পাবে।

তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবেই ইরান দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের শর্ত দিয়েছে। পাশাপাশি এসব জাহাজের গতিবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হবে। এই তদারকির দায়িত্বে থাকবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাসকে বলেন, “হরমুজ দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখন থেকে ইরানের অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করবে। এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ-পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই ধরনের কড়াকড়ি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে।

বাংলাধারা/এসআর