ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

মেহেরপুর সীমান্তে এক বছরে ৩৭২ বাংলাদেশি ‘পুশইন’”

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৬, ২০২৬, ০৪:১২ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে ২০২৫ সালে এক গভীর মানবিক সংকটের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রাতের অন্ধকারে বা সীমিত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে।

এক বছরের হিসাব অনুযায়ী, শুধু গাংনী ও মুজিবনগর সীমান্ত দিয়েই ৩৭২ জন বাংলাদেশিকে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

ফেরত আসা মানুষদের অধিকাংশই ভারতে বহু বছর ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন বা পরিবার গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ কলকাতা, নয়ডা, নদীয়া ও বহরমপুরের ইটভাটা, লোহার কারখানা ও নির্মাণ খাতে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আইনের চোখে তারা ছিলেন অনিবন্ধিত।

ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানান, ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে হাজতে নেয়, পরে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয়। কারাভোগের পর রাতে ট্রাকে করে সীমান্তে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
* ৩ ডিসেম্বর গাংনী সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩০ জন ফেরত পাঠানো হয়।
* ১৯ নভেম্বর কাথুলী সীমান্তে ২৪ জনকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
* অক্টোবর থেকে আগস্ট মাসে ফেরত আসার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ২৬ অক্টোবর মুজিবনগর সীমান্তে ২৯ জন ফিরতে বাধ্য হন।
* ২৫ অক্টোবর গাংনীর কাজিপুর ও কাথুলী সীমান্ত দিয়ে ৬০ জনকে দুই দফায় ফেরত পাঠানো হয়।

বছরের প্রথম দিকে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে মে, জুন, জুলাই পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পুশইন হয়েছে। এই তালিকায় কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, লালমনিরহাট, কক্সবাজার, ফরিদপুর ও পিরোজপুরের বাসিন্দারাও আছেন।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে বিজিবি স্থানীয় থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তাদের দেশীয় অভিভাবকের হাতে হস্তান্তর করে। তবে কেউ যদি ভারতীয় নাগরিক হয়, তাদেরকে কারাগারে রাখা হয়।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিজিবি বিএসএফকে সতর্ক করেছে যে অবৈধভাবে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেল ব্যবহার না করে হস্তান্তর করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে পুশইন বেড়ে যাওয়ায় সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

 

বাংলাধারা/এসআর