ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

চুয়াডাঙ্গার দিগড়ী বটতলা: স্মৃতির আঙিনায় শতবর্ষী আশ্রয়

সোহেল রানা ডালিম, চুয়াডাঙ্গা

 প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৫, ০৪:০৪ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিগড়ী গ্রামের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে এক বিস্তৃত ছায়াঘেরা বটগাছ। বয়স প্রায় এক শতাব্দী। শুধু বৃক্ষ নয়, এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জীবনের নীরব দলিল, সংস্কৃতির আশ্রয় আর মানুষের মিলনস্থল।

কৃষকেরা মাঠের কাজ শেষে এসে যেমন এখানে ঘাম মুছে শান্তির শ্বাস নেন, তেমনি পরিবার নিয়ে আসা মানুষজনও পান অনন্য আড্ডার স্বাদ। গরমের দুপুরে কিংবা বিকেলের হাওয়ায় চায়ের কাপ হাতে বসে থাকা-বটতলার এই দৃশ্য যেন গ্রামীণ জীবনের অনন্য রঙ। গাছকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চায়ের দোকান, যেখানে এখনো দূরদূরান্ত থেকে আসেন অতিথিরা।

স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা যায়, প্রায় একশ বছর আগে আমদ আলী নামের এক গ্রামবাসী মৃত আবদার মিয়ার জমিতে এই বটগাছের চারা রোপণ করেন। এরপর থেকে আবদার মিয়া ও তার উত্তরসূরিরা গাছটিকে যত্নে লালন করেন। সময়ের সঙ্গে গাছটি শুধু বেড়েই ওঠেনি, গ্রামবাসীর আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে মিশে গেছে অটুট বন্ধনে।

তবে আগের সেই কোলাহলপূর্ণ বটতলার পরিবেশ কিছুটা হারিয়েছে। একসময় প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমত। এখন ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আগের মতো আর লোকসমাগম হয় না। বিশেষ করে সাতগাড়ী মোড় থেকে ওভারপাস এবং কুলচারা মোড় পর্যন্ত রাস্তাঘাটের দুরবস্থাই মানুষের আনাগোনা কমিয়ে দিয়েছে।

তবু সময়ের ভাটা সত্ত্বেও দিগড়ী বটতলা এখনো জীবন্ত। গ্রামের প্রবীণ থেকে তরুণ, সবাই কোনো না কোনো স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসে এই গাছের ছায়ায় বসে। শত বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে এটি দাঁড়িয়ে আছে- মানুষের হাসি, আড্ডা আর ক্লান্তি মুছে দেওয়া মুহূর্তগুলোর সাক্ষী হয়ে।

বাংলাধারা/এসআর