আঘাতের চিহ্ন নেই সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহে, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৫, ০৬:২১ বিকাল

ছবি: সংগৃহিত
মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শনিবার (২৩ আগস্ট) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক এ তথ্য জানান। এরপর দুপুরে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ করে পুলিশ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে ফ্রিজিং গাড়িতে করে মরদেহ রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর নিজ বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়।
৭১ বছর বয়সী বিভুরঞ্জন সরকার দৈনিক আজকের পত্রিকা-তে জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে সেদিন রাতেই রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরদিন শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার চর বলাকি এলাকায় স্থানীয়রা মেঘনা নদীতে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে কলাগাছিয়া নৌ–পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের ছেলে ঋতু সরকার ও ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার মরদেহ শনাক্ত করেন।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে আবাসিক চিকিৎসক ডা. শেখ মো. এহসান মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি জানান, মরদেহটি পানিতে ছিল এবং তাতে হালকা পচন ধরেছে। তবে শরীরের বাইরে ও ভেতরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে দাঁত, চুল, লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর কিছু অংশ সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল হাতে এলেই সঠিক কারণ জানা যাবে।
ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা মরদেহ গ্রহণ করেন। চিররঞ্জন সরকার জানান, মরদেহ প্রথমে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো দেখার পর সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালিমন্দির ও শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখনই কোনো মামলা নিয়ে ভাবা হয়নি। শেষকৃত্য শেষে পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বাংলাধারা/এসআর