তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৫, ০১:৪২ দুপুর

ছবি: সংগৃহিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দিয়েছে আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী ২১ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ শুনানি নিয়ে এ সিদ্ধান্ত দেন। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপিল বিভাগ এমন একটি কার্যকর সমাধান খুঁজছে, যাতে ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বারবার সংকট তৈরি না হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রিভিউ শুনানি একদিন মুলতবি করা হয়েছিল। সেদিন শুনানির শুরুতে আইনজীবী শিশির মনির মন্তব্য করেন, তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের পক্ষে যারা রায় দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তারাই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে, অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেই এ রায় দেওয়া হয়।
এরপর গত বছরের অক্টোবরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন। একইভাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকও রিভিউ আবেদন করেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও পৃথকভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এই সংশোধনীকে সংবিধানসম্মত ঘোষণা করে। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের সুযোগও দেওয়া হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। সেই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তবে ২০১১ সালে সংসদে পাস হওয়া সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
বাংলাধারা/এসআর