মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ১২:৩৩ রাত
ছবি: সংগৃহিত
মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন (ট্রান্সপ্লান্টেশন) সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন আইনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ ও মানসিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাও নিঃস্বার্থভাবে কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, এতদিন প্রচলিত আইনে কেবল পরিবারের সদস্যরাই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারতেন। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে বিদেশে গিয়ে উচ্চমূল্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পথে হাঁটতেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই এই অনৈতিক লেনদেনের প্রবণতা বন্ধ হোক। এজন্য নতুন আইনে এমন সুযোগ রাখা হয়েছে যাতে পরিবারের বাইরের কোনো ঘনিষ্ঠজন- যার সঙ্গে দাতার আবেগীয় বন্ধন রয়েছে- সে নিঃস্বার্থভাবে অঙ্গ দান করতে পারে। এটি একটি মানবিক ও বাস্তবসম্মত পরিবর্তন।”
আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের ফলে দেশে থেকেই নিরাপদভাবে অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে, এতে বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় কমবে এবং রোগীদের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
একই বৈঠকে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ” চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আইন উপদেষ্টা জানান, পূর্ববর্তী সরকারের প্রধানের ব্যবহৃত বাসভবনকে জুলাই জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এটি জাতীয় জাদুঘরের কোনো শাখা নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ ও সেই সময়কার দমন-নিপীড়নের দলিল প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও জানান, এই অধ্যাদেশের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ‘আয়নাঘর’-গুলোতেও শাখা জাদুঘর স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন দুটি অধ্যাদেশ- অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও জুলাই জাদুঘর- অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিকতা ও ইতিহাস সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করছে। একদিকে চিকিৎসা সেবায় নতুন দিগন্ত খুলবে, অন্যদিকে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা সংরক্ষণের একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠবে।
বাংলাধারা/এসআর
