ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১২:০৭ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা তিন পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রতিটি মামলায় ৭ বছর করে এ দণ্ড প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ তিন মামলায় মোট ২৩ জন আসামি হলেও পলাতক থাকায় তাঁদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজকের দিনটি রায়ের জন্য নির্ধারণ করেন আদালত। যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেছিল।

গত জানুয়ারিতে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। পরে তদন্ত শেষে তিন মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। গত ৩১ জুলাই শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডে মোট ছয়টি প্লট অযৌক্তিকভাবে নিজেদের নামে বরাদ্দ নেন। বরাদ্দ পেতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ‘অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল’ দেখিয়ে বিশেষ সুবিধা আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ- রাজউকের আওতাধীন এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকার পরও তা গোপন রেখে মায়ের প্রভাব ব্যবহারের মাধ্যমে একটি ১০ কাঠার প্লট নিজের নামে বরাদ্দ গ্রহণ করেন। পরে তা রেজিস্ট্রি করে সরকারি জমি আত্মসাৎ করেন।

অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কোনো আবেদনপত্র দাখিল না করেও ‘ব্যক্তিগত আবদার’ দেখিয়ে প্লট বরাদ্দ নেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস বা গায়েব করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে জুলাই মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকারপ্রধানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ থেকে খালাস পান। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদও বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন।

আজ ঘোষিত রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ের মাধ্যমে ‘বিচারের বিজয়’ হয়েছে বলে মন্তব্য করলেও আসামিপক্ষ অনুপস্থিত থাকায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বাংলাধারা/এসআর