প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় জয়-পুতুলের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০১:১৭ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এর আগে গত রোববার আদালতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কোনো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি এবং তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি।
দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন) বলেন, “আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেছিলাম।”
খুরশীদ আলমের আইনজীবী শাহীনুর রহমান দাবি করেন, দুদক অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।
প্লট বরাদ্দের অনিয়ম নিয়ে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ বহু কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।
শেখ পরিবার ছাড়াও জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্য, বিভিন্ন প্রকৌশলী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিনসহ অনেককে আসামি করা হয়।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। বাকি তিনটির অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম।
প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দ্বিতীয় মামলায় পুতুল ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
তৃতীয় মামলায় জয় ও শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য হয়েও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা। এই বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির সিন্ডিকেটে ছিলেন রাজউক ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।
জয় ও পুতুলের অনুপস্থিতিতে দেওয়া এই রায়ে উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি হলো বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাধারা/এসআর
