প্লট দুর্নীতির মামলায় হাসিনা-জয়-পুতুল ছাড়াও ১৯ জনের সাজা
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৩:৩১ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির মামলায় আদালত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩ মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে এক মামলায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১৯ জন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজউকের সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার এসব মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে ও মেয়ে ছাড়াও বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।
দুদক প্রসিকিউটর মইনুল হাসান জানান, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন হবে, কিন্তু আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার বিষয়ে দুদক সিদ্ধান্ত নেবে।
শেখ হাসিনা: ৩ মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।
সজীব ওয়াজেদ জয়: এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড।
অন্য আসামিদের সাজা:
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন: ২ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস থেকে ১ বছরের কারাদণ্ড।
শরীফ আহমেদ: ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।
মো. শহীদ উল্লা খন্দকার: ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।
কাজী ওয়াছি উদ্দিন: ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।
পূরবী গোলদার: ৩ মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ থেকে ৩ মাসের কারাদণ্ড।
মো. আনিছুর রহমান মিঞা: ৩ মামলায় ৫ বছর করে মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; মোট দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩ থেকে ৯ মাসের কারাদণ্ড।
মো. নাসির উদ্দীন: ৩ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ থেকে ৬ মাসের কারাদণ্ড।
সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী: ৩ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ থেকে ৬ মাসের কারাদণ্ড।
কবির আল আসাদ: এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড।
তন্ময় দাস: ২ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ থেকে ৪ মাসের কারাদণ্ড।
মো. নুরুল ইসলাম: ২ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ থেকে ৪ মাসের কারাদণ্ড।
মো. শফিউল হক: এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড।
শেখ শাহিনুল ইসলাম: এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড।
মো. কামরুল ইসলাম: এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড।
মো. হাফিজুর রহমান: এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড।
হাবিবুর রহমান সবুজ: এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড।
নায়েব আলী শরীফ: ২ মামলায় ১ বছর করে মোট ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ থেকে ২ মাসের কারাদণ্ড।
মাজহারুল ইসলাম: এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড।
মো. খুরশীদ আলম: ৩ মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ থেকে ৩ মাসের কারাদণ্ড।
খালাস:
সাইফুল ইসলাম সরকার: অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত খালাস দিয়েছেন।
রায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সাজা পরোয়ানা দেওয়া আসামিদের দ্রুত কারাগারে পাঠানো হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা চলছে।
বাংলাধারা/এসআর
