ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

ডলারের সংকট নেই, রমজানের আমদানি নিয়েও শঙ্কা নেই: বিবি গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৩:৫০ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশে ডলারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে আসন্ন রমজানে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানি বা মূল্য পরিশোধ- দুটোর ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের চাপ বা আশঙ্কা নেই।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে গভর্নর বলেন, আমাদের এক্সটার্নাল সেক্টর এখন পুরোপুরি স্থিতিশীল। ব্যাংকিং খাতে ডলার সংকট নেই। যার যত প্রয়োজন, বৈধ উপায়ে টাকা আনলেই ব্যাংক থেকে ডলার পাওয়া যাবে।

তিনি জানান, রমজানের আগেই অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি খোলা হয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা কিংবা অর্থ পরিশোধে কোনো বাধার সম্ভাবনা নেই।

গত বছর যেভাবে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করেছিলাম, এ বছরও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। রমজানের পণ্য আমদানির এলসি ইতোমধ্যেই ওপেন করা হয়েছে।- যোগ করেন গভর্নর।

চলতি অর্থবছরে এলসি খোলার প্রবৃদ্ধিও দৃশ্যমান- কিছু ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, কোথাও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চমাত্রায় থাকার কারণ হিসেবে গভর্নর মূলত চালের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেন। তার ভাষায়, নীতিগত ব্যর্থতার কারণেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। শুধু চালের দাম ১৮ শতাংশ বাড়ায় গত মাসে মূল্যস্ফীতি ১.৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি প্রক্রিয়া সীমিত করে রাখলে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়বে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলেও দেশের পরিস্থিতি বদলাবে না।

এ প্রসঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করে গভর্নর বলেন, আমরা যখন চালের আমদানি খুলে দিলাম, তখনও সঠিক সুফল পাইনি। বিভিন্ন পর্যায়ের আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ এর জন্য দায়ী।

ব্যাংকিং খাতে আমানতের সুদহার বাড়ানোর প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ‘৬ শতাংশ থেকে আমানতের হার এখন ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজন হলে এটি আরও বাড়বে।’


বাংলাধারা/এসআর