মেঘনা নদীতে মিলল সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ
প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৫, ১০:৫৬ রাত

ফাইল ছবি
নিখোঁজের একদিন পর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের (৭১) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে গজারিয়ার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চর বলাকিয়া এলাকায় ভেসে থাকা মরদেহটি স্থানীয়দের চোখে পড়ে। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি কীভাবে সেখানে গেলেন এবং তাঁর মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নৌ–পুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু হয়েছে একদিন আগে। মরদেহ কিছুটা বিকৃত হতে শুরু করেছে, তবে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কলাগাছিয়া নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সালেহ আহমেদ পাঠান জানান, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে খবর দেয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের ছবি রমনা থানায় পাঠানো হলে স্বজনরা সেটি দেখে বিভুরঞ্জন সরকার হিসেবে শনাক্ত করেন। উদ্ধারকালে তাঁর গলায় চশমা ঝুলতে দেখা যায়।
রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তারিকুল ইসলাম বলেন, বিভুরঞ্জন সরকারের ছেলে ঋত সরকার বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। যেহেতু তিনি মোবাইল ফোন সঙ্গে নেননি, প্রযুক্তিগতভাবে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সূত্র বিশ্লেষণ করে তাঁর গতিপথ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বনশ্রীর আজকের পত্রিকা কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তবে পরে জানা যায়, তিনি অফিসে যাননি এবং মোবাইল ফোনটিও বাসায় ফেলে গিয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ১৬ আগস্ট থেকে সাত দিনের ছুটিতে ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ভাই চিররঞ্জন সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, সকাল ১০টার দিকে অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর কোথাও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাত গভীর হলেও তিনি বাসায় ফেরেননি।
দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মী ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলাধারা/এসআর