দেশে ফেরার তৃতীয় দিনেই অফিস কার্যক্রম শুরু তারেক রহমানের
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৩:১২ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরার পর তৃতীয় দিনের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস কার্যক্রম শুরু করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার জন্য নির্ধারিত নতুন চেম্বারে এসে দাপ্তরিক কাজে বসেন তিনি। এটি দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের প্রথম অফিস কার্যক্রম।
দলীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে বের হয়ে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান। কার্যালয়ে প্রবেশের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তারেক রহমান কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় তার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা চেম্বারে গিয়ে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও দলের মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দেশে ফেরার পর এটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রথম অফিস কার্যক্রম।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিনসহ চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বগুড়া জেলা বিএনপির নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, গুলশান কার্যালয়ের পাশাপাশি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তারেক রহমানের জন্য পৃথক একটি চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুলশানে একটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানই হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফেরার পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। প্রথম দিন সংবর্ধনা ও বক্তব্য শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন। পরদিন শুক্রবার তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর শনিবার তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজার, প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করেন। একই দিন আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) গিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করেন তারেক রহমান।
বাংলাধারা/এসআর
