ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ২০, ২০২৬, ০৩:৫৩ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

অতীতে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র ও দুষ্টামিতে লিপ্ত- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি এখন তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। যারা অতীতে বাংলাদেশকে মানতে পারেনি, তারাই আজ নানাভাবে দুষ্টামি করছে।”

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই ঠিক হবে বাংলাদেশ উদার গণতন্ত্রের পথে থাকবে, নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে চলে যাবে।

তিনি বলেন, “যারা একসময় মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে- সেই ইতিহাস আমরা ভুলিনি। তারপরও আমরা বলি, রাজনীতি করতে চাইলে সোজা পথে করুন। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে- এ ধরনের কথা বলে মানুষকে ভুল পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ধর্মের নাম ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আজ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও তারেক রহমানের আধুনিক রাজনৈতিক দর্শন গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখেই কেউ কেউ ধর্মকে সামনে এনে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”

বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম সংযোজন করেছেন এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার কথা বলেছেন। তাই ধর্মের নামে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে।”

নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টির সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, আর মাত্র ২৩ দিন বাকি থাকলেও কেউ কেউ এখনো নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে হুমকি দিচ্ছে। “ভেতরের খবর নিলে দেখা যাবে তাদের তিনটা ভোটও নেই। অথচ বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেবে না। হোক নির্বাচন, দেখা যাক কে কত ভোট পায়।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচন চায় এবং জনগণের কাছেই যেতে চায়। জনগণ যদি বিএনপিকে গ্রহণ করে, দল সরকার গঠন করবে; না করলে বিরোধী দলে থাকবে। “কিন্তু আগেই এত গলাবাজির কী দরকার?”- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

শেষে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। এখানে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে থাকবে, না উগ্রবাদীদের হাতে চলে যাবে। আমাদের উদারপন্থি রাজনীতি, গণতন্ত্র ও মানুষের কল্যাণের পথই বেছে নিতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমাদের ৩১ দফা, চেয়ারপারসনের দেওয়া আট দফা, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মারস কার্ডের মতো কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।”

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাধারা/এসআর