এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ কার হাতে যাবে: মির্জা ফখরুল
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২০, ২০২৬, ০৮:৪৭ রাত
ছবি: সংগৃহিত
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষায়, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ঠিক হয়ে যাবে দেশ উদার গণতন্ত্রের পথে এগোবে, নাকি উগ্রপন্থি ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির দখলে চলে যাবে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের বিষয় নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক লড়াই। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে, দেশ কি উদার গণতান্ত্রিক শক্তির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির নিয়ন্ত্রণে যাবে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে, যার উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা। তবে তার দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে, ভূমিধস বিজয় অর্জন করবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশ একটি গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসবে, যেখানে সমস্যাগুলোর সমাধান করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে আলোচনা আজ সামনে এসেছে, তার ভিত্তি বিএনপিই অনেক আগেই তৈরি করেছে। ২০১৬ সালে খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন ২০৩০ এবং পরবর্তীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৩১ দফার মধ্যেই সেই সংস্কারের রূপরেখা ছিল।
সংস্কার প্রশ্নে সরকারপক্ষের সমালোচনার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২২ সালে প্রথম বিএনপিই সংস্কারের প্রস্তাব সামনে এনেছিল। আজ যেসব সংস্কার প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে, তার সবকটিই বিএনপির ভাবনার মধ্যেই ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সংস্কার তো বিএনপিরই সন্তান, এ নিয়ে তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।
কিছু রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অনেক বিষয়ে তারা আপস করেছে, যদিও সব বিষয়ে একমত ছিল না। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বেইমানি করা হয়েছে, তবুও দেশের স্বার্থে বিএনপি সেগুলো মেনে নিয়েছে।
আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে, এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাস করে এবং তার প্রমাণ ইতিহাসেই রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেন এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা উল্লেখ করেন।
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো ২৩ দিন সময় আছে। কেউ কেউ বলছে নির্বাচন হতে দেবে না, কিন্তু বাস্তবে তাদের জনসমর্থন নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন হোক, দেখা যাক কে কত ভোট পায়। জনগণ যদি বিএনপিকে গ্রহণ করে, তারা ক্ষমতায় যাবে; আর যদি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে বিরোধী দল হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবে।
শেষে তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। জনগণকে অবশ্যই উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক ও মানুষের কল্যাণভিত্তিক পথ বেছে নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে।
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এসআর
