চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মিক ও আবেগের সম্পর্ক : তারেক রহমান
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ০১:৫৪ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম শুধু একটি শহর নয়- এটি তার পরিবারের ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মিক সম্পর্কের প্রতীক। এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এখানেই বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের সম্পর্ক গভীর আবেগে বাঁধা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নতুন করে রক্ষা করেছে। এখন দেশের মানুষ এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সুযোগ-সুবিধা কেবল কিছু মানুষের জন্য নয়- সবার জন্য থাকবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু শুধু সমালোচনায় মানুষের পেট ভরে না। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। সে জন্য কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা পায়।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, খাল-নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই দুর্ভোগ। আমরা খাল কাটতে চাই, পানি চলাচলের পথ ফিরিয়ে আনতে চাই। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন- “আপনারা কি আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন?”
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব শিল্পাঞ্চল বিএনপির শাসনামলেই গড়ে উঠেছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে নতুন নতুন ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ের ওপর কঠোর নজর রাখতে হবে। প্রথমটি মানুষের নিরাপত্তা। মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে- এটাই সরকারের দায়িত্ব। অতীতে বিএনপি সরকার পরিচালনা করেছে কঠোর শাসন ও আইনের শাসনের মাধ্যমে। আমাদের দলের কেউ অন্যায় করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
দ্বিতীয় বিষয়টি দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস করবে না। বেগম খালেদা জিয়া তার শাসনামলে দুর্নীতি দমনে সক্ষম হয়েছিলেন। আগামী দিনে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। তিনি বলেন, “ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ঘর থেকে বের হবেন। কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়াবেন।” গত ১৫ বছর জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই ধরনের ষড়যন্ত্র আবার হচ্ছে দাবি করে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। রোববার সকাল থেকেই পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেন। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা।
এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। পরে মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। মঞ্চসহ পুরো এলাকা তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে বিভক্ত করা হয়- রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে এসে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।
বাংলাধারা/এসআর
