বিতর্কিত কোম্পানি থেকে এলএনজি কেনা নিয়ে প্রশ্নবাণ
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৭, ২০২৬, ১২:৫৪ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
অন্তর্বর্তী সরকার সকার ট্রেডিং এসএ নামের বিতর্কিত বহুজাতিক কোম্পানি থেকে এলএনজি (তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করতে যাচ্ছে জিটুজি (সরকার-সরকার) চুক্তির মাধ্যমে। যদিও আগের সরকারের আমলে দরপত্র ছাড়াই এই কোম্পানিকে বেছে নেওয়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল, এবারও ঠিক একই পথে এগোচ্ছে। বিষয়টি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ কারণে জ্বালানি বিভাগ পেট্রোবাংলাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপসচিব আহমেদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সকার ট্রেডিং থেকে স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ আছে। বিশেষত কোম্পানির অতীত কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক অভিযোগ এবং বাংলাদেশে বাপেক্সের সঙ্গে চলমান বিরোধ বিবেচনা করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “এত কিছুর পরও সরকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সকার ট্রেডিং মূলত বাণিজ্যিক কোম্পানি- এর সঙ্গে কখনো জিটুজি চুক্তি হওয়া উচিত নয়। কেন আজারবাইজানের কোম্পানি সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমে চুক্তি করছে- এটাই বড় প্রশ্ন।” তিনি পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, সকার ট্রেডিং এসএ হলো আজারবাইজানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস কোম্পানি সকারের বাণিজ্যিক শাখা। প্রধান কার্যালয় zwar সুইজারল্যান্ডে হলেও প্রকৃত মালিকানা আজারবাইজানের। বিশ্বজুড়ে সকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও গ্যাস কূপ খনন সংক্রান্ত একটি মামলা আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান।
২০১৭ সালে বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিটি তিনটি গ্যাস কূপ খনন করার কথা ছিল। তবে শুধুমাত্র খাগড়াছড়ির সেমুতাং-১ কূপ খনন হয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস পাওয়া যায়নি। বাকি দুই কূপে অগ্রিম অর্থ দাবি ও জটিলতার কারণে ২০১৯ সালে সকার চুক্তি বাতিল করে। ২০২০ সালে তারা সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে বাপেক্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৮৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে।
এছাড়া মাল্টার একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগও আছে সকার ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালে দুবাইভিত্তিক ‘১৭ ব্ল্যাক’ কোম্পানিকে সন্দেহজনক অর্থ প্রদান করার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
সকার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি আজারবাইজান-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হলেও, এত বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও দরপত্র ছাড়াই কোম্পানিটি বেছে নেওয়া এবং বিচারাধীন মামলার মধ্যে চুক্তি করা- সব মিলিয়ে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে খাত সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে।
বাংলাধারা/এসআর
