ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

এনসিপি ছাড়লেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০১:৫৬ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন। ডা. তাসনিম জারার পদত্যাগের একদিন পরই দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতা তাজনূভা জাবীন।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে তাজনূভা জাবীনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি।

‘জোট নয়, জোটের প্রক্রিয়াই মূল সমস্যা’

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তাজনূভা জাবীন লেখেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত নয়, বরং যে প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটিই তার জন্য সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে।

তিনি লেখেন, মনোনয়ন সংগ্রহের আহ্বান জানিয়ে সারাদেশে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর হঠাৎ করে ৩০টি আসনে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বাকি প্রার্থীদের কার্যত নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনভাবে বিষয়টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টেনে নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও দাঁড়াতে না পারে।

‘বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত’

তাজনূভা জাবীন বলেন, এটি আদর্শগত বিরোধের চেয়েও বড়, এটি বিশ্বাসের সংকট। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কোনো সাধারণ সভা বা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং শীর্ষ নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মাধ্যমে বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, এনসিপি যে গণপরিষদ, দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র, মধ্যপন্থা, নারী ও জাতিসত্তাভিত্তিক রাজনীতির কথা বলে এসেছে, সেই রাজনীতির ধারক হিসেবে তিনি নিজেকে মনে করতেন। দলের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েও আজ নিজেকে প্রতারিত মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘সম্মানজনক কোনো বিকল্প ছিল না’

তাজনূভা জাবীনের ভাষ্য, দলের ভেতরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ‘মাইনাসের রাজনীতি’ চলমান, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি নতুন মধ্যপন্থী রাজনীতি গড়ে তোলার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ পরিস্থিতিতে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছাড়া তার সামনে আর কোনো সম্মানজনক পথ খোলা ছিল না।

তিনি বলেন, দলের ভেতরে যারা প্রকৃত অর্থে এনসিপির ঘোষিত রাজনীতি চর্চা করেছেন, তারাই একে একে দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। আর যারা বিতর্কের জন্ম দিয়ে সেটিকে ‘বিপ্লব’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন, তারাই দলে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা

পদত্যাগের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাজনূভা জাবীন। তিনি লেখেন, ভাঙা মন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এমনকি তার নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য চট্টগ্রাম থেকে তার মা ঢাকায় আসছিলেন, ঠিক সেই দিনেই তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ডোনেশন ফেরত দেওয়ার আশ্বাস

তিনি জানান, নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য প্রাপ্ত সব অনুদান ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে পরে আলাদা করে আপডেট দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘রাজনীতি ছাড়ছি না’

শেষে তাজনূভা জাবীন বলেন, তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না। গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, মধ্যপন্থী ও বাংলাদেশপন্থী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। সময়ই বলে দেবে ভবিষ্যৎ—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

বাংলাধারা/এসআর