ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

মেডিকেল ছাত্র রাফির মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি আহত মাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২৫, ০৭:১০ বিকাল  

ছবি: সংগৃহিত

বংশালের কসাইটুলি এলাকায় ভবনের ছাদঘেঁষা রেলিং ভেঙে পড়ে মা-ছেলের ওপর। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফি (২০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মা নুসরাত জাহান নিপা চিকিৎসাধীন রয়েছেন মিটফোর্ড হাসপাতালে। তবে এখনো তাকে জানানো হয়নি সন্তান আর বেঁচে নেই।

শুক্রবার বিকেলে বাজার থেকে মাংস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন রাফি ও তার মা। পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন। আলাদা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা নুসরাত জাহান জীবনের সঙ্গে এখনো লড়ছেন।

মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজহারুল ইসলাম খান জানান, নুসরাত জাহানের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং সেলাই করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত কিনা জানাতে আরও সময় লাগবে।
“বর্তমান অবস্থায় তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। এমন দুঃসময়ের আঘাত তিনি সহ্য করতে পারবেন না,” বলেন হাসপাতাল পরিচালক।

রাফি পরিবারসহ কসাইটুলি এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। তার বাবা ওসমান গনি। আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল রাফির, জানান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মাজহারুল শাহীন।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নুসরাত জাহান মাঝে মাঝেই ছেলের খোঁজ চান। তাকে আশ্বস্ত করতে চিকিৎসকরা বলেন, রাফি চিকিৎসা নিচ্ছে। কিন্তু মায়ের অশান্ত মন বারবার কেঁদে উঠছে; কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তিনি।

কসাইটুলি এলাকার ওই রেলিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রাফির পাশাপাশি নিহত হয়েছেন কাপড় ব্যবসায়ী আবদুর রহিম (৪৫) ও তার ছেলে মেহরাব হোসেন (১১)। সুরিটোলার বাসিন্দা রহিম ছেলেকে নিয়ে মাংস কিনতে কসাইটুলিতে গিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার মুহূর্তে তারা রাফির ঠিক পাশেই ছিলেন।

অসহায় চোখে অপেক্ষা করছেন রাফির মা, আর কোনোদিনও জানতে পারবেন না সেই প্রিয় মুখের ফিরে না আসার গল্প।

বাংলাধারা/এসআর