ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

বিআরটিসির প্রতিটি বাস থেকেই কালো ধোঁয়া বের হয়: পরিবেশ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৭, ২০২৬, ১১:৪৬ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) প্রতিটি বাস থেকেই কালো ধোঁয়া নির্গত হয় বলে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে তা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিআরটিএ আয়োজিত পেশাজীবী পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “একটা কথা একটু মন খারাপ করেই বলি- বিআরটিসির যত বাস আছে, সবকটা বাস থেকেই কালো ধোঁয়া বের হয়। আমি চ্যালেঞ্জ করেই বলছি, প্রতিটা বাস থেকেই কালো ধোঁয়া বের হয়। এগুলো কি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না?” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ থাকলে এই দূষণ অনেকটাই কমানো যেত।

তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর স্ক্র্যাপ পলিসি না থাকায় পুরোনো ও দূষণকারী যানবাহন সড়ক থেকে সরানো যাচ্ছে না। “গত ১০ মাস ধরে আমি নিজে যতবার ফোন করেছি, জানি না সড়ক উপদেষ্টা কতবার করেছেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর স্ক্র্যাপ পলিসি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখনো সেটি হয়নি,”- আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যদি সরকার দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর না হয়, তাহলে অন্য কেউ কঠোর হবে না।

তিনি বলেন, বিআরটিসির বাসগুলোর নিয়মিত মেইনটেন্যান্স নিশ্চিত করা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে বিআরটিএর বড় দায়িত্ব রয়েছে। “আমরা বলছি না আজকেই পুরোনো বাস সরিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু সময় তো দেওয়া হচ্ছে। অন্তত দয়া করে ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ করুন। পুরোনো বাস বদলাতে সময় লাগে- এটা বুঝি। কিন্তু ৫৪ বছর হয়ে গেছে, আর কত সময় লাগবে?”- বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি চালকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও জোর দেন। বলেন, আজ যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলো, এর মাধ্যমে চালকদের শেখানো হবে কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে হয়। অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করলে স্বাভাবিকভাবেই গতি কমবে, দুর্ঘটনাও কমবে। হর্ন বাজিয়ে ক্ষমতা দেখানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

 

বাংলাধারা/এসআর