ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জনের মাঝেই আইনি জটিলতায় ধানুশের নতুন সিনেমা

বিনোদন প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৯, ২০২৬, ০১:২৫ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

দক্ষিণী তারকা ধানুশ ও বলিউড অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুরকে ঘিরে প্রেম এবং সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন যখন শোবিজ অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে, ঠিক সেই সময়ই নতুন এক আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে ধানুশ অভিনীত সিনেমা ‘তেরে ইশক মে’।

ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘রাঞ্ঝনা’র স্মৃতিকে সামনে রেখে পরিচালক আনন্দ এল রাই নির্মাণ করেন ‘তেরে ইশক মে’। ধানুশ ও কৃতি শ্যানন অভিনীত এই সিনেমা মুক্তির পর বক্স অফিসে ভালো সাড়াও পায়। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের মাঝেই ছবিটির বিরুদ্ধে গুরুতর আইনি অভিযোগ উঠেছে।

স্টুডিও ইরোস ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ‘তেরে ইশক মে’কে পরিকল্পিতভাবে ‘রাঞ্ঝনা’র স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অথচ ‘রাঞ্ঝনা’র সব মেধাস্বত্ব ইরোসের মালিকানাধীন। তাদের বক্তব্য, ওই ছবির কোনো সিক্যুয়েল, প্রিক্যুয়েল বা রিমেক নির্মাণ করতে হলে ইরোসের অনুমতি ও অংশীদারিত্ব আবশ্যক।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালক আনন্দ এল রাই ও তার প্রযোজনা সংস্থা কালার ইয়েলো প্রোডাকশনসের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে ৮৪ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছে ইরোস।

ইরোসের আরও অভিযোগ, ‘রাঞ্ঝনা’র জনপ্রিয়তা ও নস্ট্যালজিয়া ব্যবহার করে নতুন সিনেমাটির ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক নিয়ম ও কপিরাইট আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি দুই ছবিতেই মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব অভিনীত জনপ্রিয় চরিত্র ‘মুরারি’কে ফের ব্যবহার করা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, অনুমতি ছাড়া ওই চরিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার তাদের আইনি অধিকারের পরিপন্থী।

এছাড়া ‘তেরে ইশক মে’–তে ধানুশের চরিত্র ‘শঙ্কর’-এর আবেগ, সংলাপ ও দর্শনের সঙ্গে ‘রাঞ্ঝনা’র ‘কুন্দন শঙ্কর’-এর বিস্ময়কর মিল রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ইরোস।

ইরোস ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে তারা এ বিষয়ে একাধিকবার সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে প্রচার থেকে সাময়িকভাবে ‘রাঞ্ঝনা’ নাম সরানো হলেও বাস্তবে এখনও কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে পরিচালক আনন্দ এল রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, ‘তেরে ইশক মে’ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র গল্পের ছবি এবং এটি কোনোভাবেই ‘রাঞ্ঝনা’র সরাসরি সিক্যুয়েল নয়।

এদিকে ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে জল্পনা আর পেশাগত জীবনে আইনি চাপ- সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে ধানুশের নাম শিরোনামে একাধিক কারণে।


বাংলাধারা/এসআর