১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিল ইসরায়েল
মধ্যস্থতাকারীদের তত্ত্বাবধানে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে মরদেহ বিনিময়
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ১০:৫২ রাত
ছবি: সংগৃহিত
ইসরায়েল তাদের এক নাগরিকের মরদেহের বিনিময়ে ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বুধবার এই মরদেহ বিনিময় সম্পন্ন হয়।
তবে এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ মরদেহ ফেরত দিতে পারেনি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস-এর একটি ইসরায়েলি নাগরিকের এবং অন্যটি থাই শ্রমিকের। হামাস বলছে, গাজার ভেতরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মরদেহগুলো উদ্ধার করতে সময় লাগছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর জীবিত জিম্মিদের ধাপে ধাপে ফেরত দিলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি মরদেহের সন্ধান পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল এই বিলম্বকে ইচ্ছাকৃত বলে দাবি করেছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বুধবার বলেছেন, তারা মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “গাজার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে মরদেহ শনাক্ত করা সময়সাপেক্ষ। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি,”- জানান তিনি।
তুরস্ক, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় কায়রোতে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। গত ১০ অক্টোবর যে চুক্তি হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার গাজায় আন্তর্জাতিক সশস্ত্র বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের পরিকল্পনা উঠে এসেছে।
এই বাহিনীর প্রধান কাজ হবে-
* গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
* হামাসকে নিরস্ত্র করা,
* পুনর্গঠন তদারকি করা।
ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, তারা এই বাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার শান্তিরক্ষী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে পরিকল্পনার কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সময়সীমা নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। দুই পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও সাময়িক শান্তি টিকে আছে।
এদিকে পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল সেখানে বৃহৎ আকারের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ইসরায়েল বলেছে, এটি ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’। তবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি জিম্মি উদ্ধারের বিপরীতে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করবে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী-
* চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মোট ৩৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত এসেছে।
* কিন্তু মাত্র ৯৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
গাজায় ডিএনএ পরীক্ষার সরঞ্জাম স্বল্পতার কারণে মরদেহ শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া এসব মরদেহের মধ্যে কারা ৭ অক্টোবর নিহত হয়েছিলেন, কারা ইসরায়েলি হেফাজতে মারা গেছেন বা যুদ্ধ চলাকালে সেনাদের হাত ধরে গাজা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন- সেসব তথ্যও এখনও স্পষ্ট নয়।
গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর। মরদেহ ফেরত দেওয়া একটি মানবিক ধাপ হলেও সার্বিক দ্বন্দ্বের সমাধান এখনো অনেক দূরে বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা।
বাংলাধারা/এসআর
